লিখেছেন: মনজুরুল হক

শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার

ষাঁটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মনি সিংহ-মোজাফ্ফরদের রুশপন্থী সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ আন্তরিক বিপ্লবীদের বিদ্রোহের প্রক্রিয়ায় গঠিত ইপিসিপি (এম-এল) এবং এর ধারাবাহিকতার অন্যান্য দল ও উপদলগুলো নিজেদের সত্যিকার মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বিপ্লবী পার্টি হিসেবে দাবী করার পরও ১৯৬৭ সাল থেকেই কমরেড সিরাজ সিকদার এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে শ্রমিক শ্রেণীর একটি সত্যিকার মার্কসবাদী-লেনিনবাদী–মাওসে-তুঙ চিন্তানুসারী বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে একটি নতুন প্রক্রিয়া শুরু করেন। এই উদ্যোগের মূলে ইপিসিপি (এম-এল) ও এর থেকে বিভক্ত অন্যান্য দল-উপদলগুলো জন্মের শুরু থেকেই যে সংশোধনবাদী লাইন গ্রহণ অনুসরণ করে তার বিরোধিতা করা এবং এর বিপরীতে একটি সত্যিকার মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলা।

. সে সময় ইপিসিপি (এম-এল) আন্তর্জাতিকভাবে ক্রুশ্চেভের নেতৃত্বে রুশ পার্টির আধুনিক সংশোধনবাদী এবং দেশীয় ক্ষেত্রে মনি-খোকা-মোজাফ্ফর চক্রের লাইনের বিরোধিতা করলেও সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছিল। কারণ এরাই ইতিপূর্বে মনি-খোকা-মোজাফ্ফরদের নেতৃত্বে তাদের সংশোধনবাদী, সংস্কারবাদী, সুবিধাবাদী ও বিলোপবাদী লাইন অনুশীলন করেছিল, পার্লামেন্টারী রাজনীতি তথা নির্বাচনকেন্দ্রীক রাজনীতির অনুসারী ছিল। সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও বিভক্তির সময় মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গি, অনুশীলনের সঠিক ও সার্বিক সারসংকলন এবং আত্মসমালোচনা করতে ব্যর্থ হয়। বরং অভ্যন্তরীন লাইনের ক্ষেত্রে তারা ওই সকল প্রকাশ্য গণসংগঠনবাদী, সংস্কারবাদী-অর্থনীতিবাদী অনুশীলনেই (৭০ এর পূর্ব পর্যন্ত) নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখে।

মস্কোপন্থী সংস্কারবাদীদের থেকে বিভক্ত হওয়ার পরও এরা পেটি বুর্জোয়া সংস্কারবাদী ভাসানী ন্যাপের কাঠামোর অধীনে সংস্কারবাদী ও বিভ্রান্তিকর প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতায় নিজেদের নিয়োজিত রাখে। হক, তোয়াহা’র মত নেতৃস্থানীয় ‘কমিউনিস্ট’রাও ইসলামী সমাজতন্ত্রের মত বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রকাশ্যেই প্রচার করে এবং এভাবে শ্রমিক শ্রেণীর একটি বলশেভিক ধরণের বিপ্লবী রাজনৈতিক পার্টি গড়ে তুলতে তারা ব্যর্থ হয়।

. এরা জাতীয় সমস্যার উপর মার্কস, লেনিন ও স্ট্যালিনের মূল শিক্ষাগুলোকে আত্মস্থ করতে ও পূর্ব বাংলার (তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের) বিশেষ অবস্থায় তা সৃজনশীলভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়। পূর্ব বাংলার উপর পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির পরিচালিত জাতীয় নিপীড়নকে তারা কার্যত অস্বীকার করে। এবং এই জাতীয় নিপীড়ন অবসানের একমাত্র উপায় যে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্থাৎ বিচ্ছেদের অধিকার, যার জন্য সংগ্রাম প্রকৃত বিচ্ছেদের জন্য সংগ্রামেও রূপ লাভ করতে পারে তা তারা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়।

. একদিকে তারা পূর্ব বাংলার জাতীয় সমস্যাটিকে তৎকালিন প্রধান সমস্যা হিসেবে বুঝতে ব্যর্থ হয়, এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার লাইনকে ও জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার লাইনকে উগ্র জাতীয়তাবাদ বলে আখ্যায়িত করে বিরোধিতা করে। অথচ একই সাথে তারা সমগ্র পাকিস্তান ভিত্তিক বিপ্লবী পার্টি গঠন ও বিপ্লবের কর্মসূচী হাজির করার পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তান ভিত্তিক পার্টি গঠন করে এবং ‘জনগণতান্ত্রিক পূর্ব পাকিস্তান’ শ্লোগানের মাধ্যমে কার্যত বিচ্ছিন্নতার লাইনকেই গ্রহণ করে।

. তারা সভাপতি মাও-এর দ্বন্দ্বতত্ত্বকেও বুঝতে ব্যর্থ হয়। প্রধান দ্বন্দ্ব নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তাকে অবহেলা করে এর গুরুত্বকে অস্বীকার করে।

এভাবে তারা একের পর এক ভুল লাইন অনুশীলন করতে থাকে। তাদের এই ভুলের কাসুন্দি অনেক দীর্ঘ। এই যখন সে সময়কার অবস্থা, ইপিসিপি (এম-এল)’এর নয়াসংশোধনবাদী ধারার ভেতর থেকে যখন একটি সঠিক সর্বহারা বিপ্লবী লাইন গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছিল না, তখন এই ধারার সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কচ্ছেদ ঘটিয়ে সকল প্রকার সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে আগাগোড়া সুস্পষ্ট, নীতিভিত্তিক ও আপোষহীন সংগ্রামের প্রক্রিয়ায় একটি সঠিক বিপ্লবী লাইন গড়ে তোলা এবং শ্রমিক শেণীর একটি সত্যিকার মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওচিন্তানুসারী বিপ্লবী পার্টি গোড়ে তোলার জন্য নতুন ও পৃথক প্রক্রিয়া সূচনা করা ছাড়া সত্যিকার কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের জন্য আর কোনো সঠিক পথ ছিল না। ১৯৬৭/৬৮ সালে কমরেড সিরাজ সিকদার এ মহান সংগ্রাম ও দায়িত্বটিকেই সাহস ও দৃঢ়তার সাথে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।

কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে সত্যিকার বিপ্লবীরা সর্বহারা শ্রেণীর একটি সঠিক বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সুস্পষ্ট পৃথক ধারার সূচনা হিসেবে প্রথম ১৯৬৭ সালে “মাও সে-তুঙ চিন্তাধারা গবেষণাগার” ও পরে ১৯৬৮ সালের শুরুতে পার্টির প্রস্তুতি সংগঠন “পূর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলন” প্রতিষ্ঠা করেন। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সে-তুঙ চিন্তাধারাকে ‘শ্রমিক আন্দোলন’ তার পথনির্দেশক তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে এবং পাকিস্তানী সামরিক ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠির জাতিগত শোষণ-লুণ্ঠনের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য পূর্ব বাঙলাকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন ও স্বাধীন করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের রণনীতির ভিত্তিতে সশস্ত্র জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার এবং সাম্রাজ্যবাদ, সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদকে উৎখাতের লক্ষ্যে সর্বহারা শ্রেণীর জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব পরিচালনার রাজনৈতিক লাইন ও কর্মসূচি হাজির করে। রাজনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে সঠিক প্রমাণিত এবং সশস্ত্র সংগ্রামে পোড়খাওয়া সঠিক লাইন ও বিপ্লবী অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পাক সামরিক ফ্যাসিস্টদের কামানের গোলার শব্দের মধ্যে ১৯৭১ সালের ৩রা জুন বরিশাল জেলার পেয়ারা বাগানে কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে “পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি”।

৭১ সালে সর্বহারা পার্টি পাক সামরিক ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তির সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনা করার পাশাপাশি সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের মদদে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের হস্তক্ষেপ, আক্রমণ ও দখলকেও দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করে। পার্টি ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ, সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের নগ্ন আগ্রাসী চরিত্র ও উদ্দেশ্যকে জনগণের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এককথায় পার্টি তখন দুই ফ্রন্টে সংগ্রাম পরিচালনা করে, কিন্তু নতুন ও ক্ষুদ্র শক্তি এবং দুই ব্লকের শত্রুর (পাকিস্তান ও ভারতীয় বাহিনী) দ্বিমুখি প্রচণ্ড আক্রমণ ও দমান-পীড়নের কারণে ’৭১ সালের শেষ দিকে এসে পার্টির নেতৃত্বাধীন ফ্রন্ট এলাকাগুলো ও বাহিনী গুরুতরভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে ১৯৬৮ সাল থেকে ‘পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় একটি সত্যিকার মার্কসবাদী-লেনিনবাদী লাইনের ভিত্তিতে শ্রমিক শ্রেণীর বিপ্লবী পার্টি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ১৯৭১ সালের মাঝামাঝিতে এই পার্টি ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বহু সঠিকতা ও বিপ্লবী অনুশীলন স্বত্বেও অল্প সময়, নতুন সংগঠন, খুবই ক্ষুদ্র আত্মগত শক্তি, প্রচার ও পরিচিতির অভাব, অভিজ্ঞতার অভাব ইত্যাদি কারণে ‘পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন’ ও ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি’র পক্ষে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিদ্বন্দ্বী দালাল বুর্জোয়াদের নেতৃত্বের কব্জা থেকে জনগণকে মুক্ত করা এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে কৃষক-শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে সফলতার পথে পরিচালিত করা তখন সম্ভব ছিলনা।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে সে সময় আওয়ামী লীদের বিপুল জনপ্রিয়তার বিপরীতে ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি’ তার অভিষ্ট লক্ষ্যে দৃঢ়ভাবে কর্মসূচী এগিয়ে নেয়ার দুরূহ কাজটি সফলতার সাথেই পরিচালিত করে। একদিকে প্রবল প্রতিপক্ষ আর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রচার মাধ্যমে ক্রমাগত মিথ্যা প্রচার-প্রপাগান্ডা, অন্যদিকে রক্ষীবাহিনীর নৃশংস দমন-পীড়ন এবং অর্ন্তদলীয় কোন্দলে সর্বহারা পার্টি সাময়িক ক্ষতির সন্মূখিন হয়। সে সময় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে বিরামহীন উপদলীয় কোন্দল। পেটি বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী শ্রেণী থেকে আগত পার্টির তাত্ত্বিক নেতাদের কেউ কেউ নিজেকে সর্বহারা শ্রেণীর সাথে মিলিয়ে ফেলার কাজটি যথাযথভাবে করতে ব্যর্থ হন। পেটি বুর্জোয়া সীমাবদ্ধতা, পিছুটান, ক্ষুদ্র মালিকানা মানসিকতা, পেটি বুর্জোয়া রোমান্টিকতা, শ্রমিক-কৃষক শ্রেণীকে শিক্ষক ভাবতে না পারার ফলে পার্টির সঙ্গে শ্রমিক-কৃষকের দূরত্ব বাড়তে থাকে। সেই সাথে পার্টি অভ্যন্তরে উপদলীয় কোন্দলও বেগবান হতে থাকে। এ সময় কমরেড সিরাজ সিকদার ‘লালঝাণ্ডা’ পত্রিকায় একের পর এক সার্কুলার প্রকাশিত হতে থাকে। বিশেষ করে ১৯৭২ সালের শুরুতে ফজলু ওরফে আহাদ ওরফে সেলিম শাহেনেওয়াজ, সুলতান ওরফে মাহমুদ ওরফে আকবর, জাফর ওরফে কামাল ওরফে আজম ত্রয়ীর উপদলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করলে কমরেড সিরাজ সিকদার সার্কুলার নম্বর ৫, তারিখ ৩০.০৪.১৯৭২ এবং ৮ মে ১৯৭২ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের ইশতেহারে এই উপদলীয় বিশ্বাসঘাতকত্রয়ীকে বহিষ্কার করে। এদের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে বহিষ্কার করা হয় রিজভিকেও।

এর পর ১৯৭২ সালের মে মাস থেকে শুরু হয় পার্টিতে ‘শুদ্ধি অভিযান’। এই অভিযন চলতে থাকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত। এ সময় পার্টিকে আবারও একসাথে দুই ‘শত্রুর’ বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে। অভ্যন্তরীন উপদলীয় চক্রান্ত (যা এই বাংলাদেশের ইতিহাসে বীরত্বগাথার পাশাপাশি সমান ‘মহিমায়’ ভাস্বর থেকেছে ইতিহাসের কালে কালে), সরকারি দমন-পীড়ন সেই সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুমুল উত্থান-পতন বেশ ভালেঅভাবেই ক্রিয়া করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে। ভারতে কমরেড চারু মজুমদারকে গ্রেপ্তারের পর হত্যা করা, সিপিআই(এম-এল)’এর দ্বিতীয় সারির অন্যতম নেতা কমরেড সরোজ দত্তকে এনকাউন্টারে হত্যা করে কার্যত নক্সাল আন্দোলনের প্রধান স্রোতকে থমকে দিতে পেরেছে ভারতের ফ্যাসিস্ট সরকার। সেই ‘ক্রান্তিকালে’ তৎকালীন অপরাপর মার্কসবাদী নামধারী পার্টিগুলোর একে একে নিষ্ক্রয় হয়ে পড়া, এক পক্ষ সরকারের সাথে সখ্য গড়ে তোলা এবং ভারতে ও বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ‘সর্বহারা’, ‘নক্সাল’ নিধন চলতে থাকে। এ সময় পার্টির সংগ্রামী কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও পার্টির তাত্ত্বিক অগ্রগতি সাফল্যজনকভাবে বিকাশ হতে থাকে। সফলভাবে তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন সম্পন্ন করার পর পার্টির পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। সেই রিপোর্টে একটি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাও সে-তুঙ চিন্তাধারার অনুসারী পার্টির পূর্ণাঙ্গ গঠন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরিচালনা, নীতি-কৌশল, রণনীতি-রণকৌশল, আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির বিশ্লেষণ, রাষ্ট্রের বৈশিষ্টের বিশ্লেষণ, শ্রেণী বিশ্লেষণ, পার্টি অভ্যন্তরে কাজের পদ্ধতিসহ প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার নিয়মে গৃহিত হয় এবং পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি পূর্ণাঙ্গতা পায়।

কিন্তু এই মহান দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা তার তিল তিল করে গড়ে তোলা পার্টির সফল কর্মসূচী দিয়ে এদেশের মানুষকে সাম্রাজ্যবাদ, সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ, স্রম্প্রসারণবাদের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে যেতে পারেননি। দলের অভ্যন্তরে ‘বিভিষণ’দের বিশ্বাসঘাতকতা এবং রাষ্ট্রীয় রক্ষী বাহিনীর দমন-পীড়ণের এক পর্যায়ে ১৯৭৫ সালে ১লা জানুয়ারী চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হন সিরাজ সিকদার। তার পরদিন রাষ্ট্রীয় হেফাজতে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সরকারি ঘোষণায় বলা হয় ‘পালাতে গিয়ে সিরাজ সিকদার পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন’। রাষ্ট্র কর্তৃক ‘ক্রসফায়ারের’ প্রথম শিকার হন কমরেড সিরাজ সিকদার। নিভে যায় এদেশের মানুষকে শোষণ-বঞ্চনার জগদ্দ্ল পাহাড় থেকে মুক্ত করার দুঃসাহসী বাতিঘরটি।।

সাহায্যকারী গ্রন্থঃ

. সিরাজ সিকদার রচনা সংগ্রহ। শ্রাবণ প্রকাশনী, ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০০৯।

. এই দেশ এই সময়। রচনাঃ সিরাজুল কাদের। চিন্ময়ী প্রকাশনী, ঢাকা। ৮ ফাল্গুন, ১৩৮২।

. বিতর্ক পত্রিকা। ১৯৮৫-৮৬ সালে প্রকাশিত কয়েকটি সংখ্যা।