<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<!-- generator="FeedCreator 1.7.2" -->
<rss version="2.0" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom">
    <channel>
        <atom:link href="http://bangladeshleftist.yolasite.com/বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি.rss" rel="self" type="application/rss+xml" />
        <title>বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি</title>
        <description>বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি</description>
        <link>http://bangladeshleftist.yolasite.com/বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি.php</link>
        <lastBuildDate>Fri, 05 Jun 2026 22:02:42 +0100</lastBuildDate>
        <generator>FeedCreator 1.7.2</generator>
        <item>
            <title>সংস্কৃতি কিভাবে মানুষের জিনেটিক্স ...</title>
            <link>http://bangladeshleftist.yolasite.com/বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি/সংস্কৃতি-কিভাবে-মানুষের-জিনেটিক্স-কে-প্রভাবিত-করেছে</link>
            <description>&lt;span&gt;&lt;a class=&quot;&quot; href=&quot;http://bigganblog.com/?author=7&quot; title=&quot;Posts by খান ওসমান&quot; rel=&quot;author&quot;&gt;খান ওসমান&lt;/a&gt;&lt;/span&gt; 
		
						
				
					&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;img class=&quot;aligncenter yui-img&quot; alt=&quot;&quot; src=&quot;http://ichef.bbci.co.uk/wwfeatures/624_351/images/live/p0/1x/5n/p01x5nv5.jpg&quot; height=&quot;351&quot; width=&quot;624&quot;&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;a class=&quot;&quot; href=&quot;http://www.bbc.com/future/story/20140410-can-we-drive-our-own-evolution&quot;&gt;লেখাটি বিবিসি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি লেখার অনুবাদ।&amp;nbsp;&lt;/a&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: left&quot;&gt;প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের&amp;nbsp;দুধ খেতে পারার কথা নয়। 
আপনার পূর্বসূরীদেরও না। মাত্র ৯০০০ বছর আগে থেকে একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ 
দুধ খেয়ে হজম করতে পারছে, অসুস্থ না হয়েই। শিশুরা সবসময়েই এটা করতে পারতো, 
কিন্তু যখন থেকে আমরা দুগ্ধখামার শুরু করেছি কেবলমাত্র তখন থেকেই 
প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ দুধ হজমের ক্ষমতা অর্জন করেছে।&amp;nbsp;এমনটা দেখা গিয়েছে যে 
যেসব সংস্কৃতির মানুষ দুগ্ধখামার তৈরি করেছিল এবং নিয়মিত দুধ পান করেছিল 
তাদের দেহে অন্য এলাকার মানুষের চেয়ে বেশি মাত্রায় ল্যাকটোজ হজম বা সহ্য 
করার এবং এ সংক্রান্ত অন্য জিন আছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক আচার-আচরণ কিভাবে মানুষের বিবর্তনকে প্রভাবিত 
করতে পারে তার শুধুমাত্র একটি উদাহরণ হল এই দুধ পানের ইতিহাস।&amp;nbsp;সংস্কৃতি এবং
 জিনেটিক্সকে প্রায়ই দুইটি&amp;nbsp;ভিন্ন প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু গবেষকগণ
 দিন দিন এই দুটি বিষয়ের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পারছেন, 
যেখানে একটি আরেকটির প্রাকৃতিক প্রগতিকে প্রভাবিত করছে।&amp;nbsp;জিনতত্ত্ববিদেরা 
একে বলছেন ‘জিন-সংস্কৃতি সহ-বিবর্তন’। কিন্তু কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ? যদি 
আমরা খুঁজে পাই কিভাবে সংস্কৃতি আমাদের জিনেটিক গঠনকে প্রভাবিত করেছে- এবং 
কিভাবে একই প্রক্রিয়া অন্য জীবের জন্যও খাটে- তবে আমরা ভালভাবে বুঝতে পারবো
 কিভাবে আমাদের সামাজিক আচরণ আমদের ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;সংস্কৃতি দ্বারা জিন প্রভাবিত হওয়ার&amp;nbsp;আরেকটি উদাহরণ হল মিষ্টিআলু চাষ এবং
 ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের সম্পর্ক।&amp;nbsp;পুরো আফ্রিকাজুড়ে মানুষ ম্যালেরিয়ার 
বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, CDC রিপোর্ট অনুযায়ী 
(www.cdc.gov/malaria)&amp;nbsp;২০১০ সালে প্রায় ২২ কোটি ম্যালেরিয়ার ঘটনা লিপিবদ্ধ 
হয়েছে এবং ৬ লক্ষ ৬৬ হাজার মানুষ মারা গিয়েছে, যার মধ্যে ৯০ শতাংশই হল 
আফ্রিকাতে।&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: left&quot;&gt;কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছেন যাদের মধ্যে 
ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা আছে। তাদের 
লোহিত রক্তকণিকা সাধারন চাকতির আকৃতি ধারন না করে কাস্তে বা ঈদের চাঁদের মত
 আকৃতি নিয়েছে। এই অদ্ভুদাকৃতির রক্তকণিকার কারনে সিকেল সেল &amp;nbsp;রোগ&amp;nbsp;(কাস্তে 
কোষ রোগ বলা যায়?)&amp;nbsp;হয় এবং &lt;a class=&quot;&quot; href=&quot;http://www.nhlbi.nih.gov/health/health-topics/topics/sca/&quot;&gt;এভাবে কোন রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এবং ব্যাথা এবং অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।&lt;/a&gt;
 সাধারন অবস্থায়, বিবর্তন আমাদেরকে সিকেল সেল রোগ থেকে দূরে রাখে, কারন 
রোগটি&amp;nbsp;ক্ষতিকর এবং মানুষের আয়ু কমিয়ে&amp;nbsp;দেয়। কিন্তু একটি জীববৈজজ্ঞানিক উদ্ভট
 উপায়ে&amp;nbsp;সিকেল সেল জিন ম্যালেরিয়া থেকে আমাদের প্রতিরক্ষা করে। তাই, যেসব 
স্থানে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ খুব বেশি, যেমন আফ্রিকায়, সেখানে প্রাকৃতিক 
নিবার্চন কাস্তে-আকৃতির&amp;nbsp;কোষকে বরঞ্চ পছন্দ করে। জীবনের জুয়া খেলায় সিকেল 
সেল রোগে ভোগার দাম দিয়েও ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধটাই আসলে পছন্দসই 
উপায়।&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: left&quot;&gt;কিন্তু মজার বিষয়টি&amp;nbsp;হল এই জায়গায়: যেসব 
জায়গাতে মিষ্টিআলু চাষ হয় বেশি বেশি সেসব এলাকার মানুষদের মধ্যে আশেপাশের 
অন্যধরনের চাষাবাদের মানুষদের চেয়ে বেশি মাত্রায় সিকেল জিন থাকতে দেখা 
গিয়েছে। মিষ্টিআলু চাষ করতে গেলে বড় বড় গাছগুলিকে কেটে ফেলতে হয়। ‘গাছ উপড়ে
 ফেলাটা অবশ্যম্ভাবীভাবেই বৃষ্টি হলে স্থিতপানির (পুকুর, ডোবা, বিল 
ইত্যাদি) পরিমান বাড়িয়ে দেবে, যেটা ম্যালেরিয়া-বহনকারী মশার বংশবিস্তারের 
জায়গা তৈরি করবে,’ &lt;a class=&quot;&quot; href=&quot;http://www.nature.com/nrg/journal/v11/n2/abs/nrg2734.html&quot;&gt;নেচার রিভিউতে লিখছেন&lt;/a&gt;
 সেইন্ট এন্ড্রু জীববিজ্ঞানী কেভিন ল্যাল্যান্ড। অধিক মশা মানেই 
অধিক&amp;nbsp;ম্যালেরিয়া, যেটা&amp;nbsp;এই এলাকার মানুষের মধ্যে কাস্তে-আকৃতির &amp;nbsp;কোষকে বেশি 
অভিযোজিত করতে সাহায্য করবে।&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: left&quot;&gt;তাই দেখা যাচ্ছে সিকেল সেল রোগের ম্যালেরিয়াকে
 প্রতিরোধ করাটা একটি অনন্য মনুষ্য আচরণের ফল- মিষ্টিআলুর চাষ- যেটা 
বিবর্তনকে কাজ করতে সাহায্য করেছে।&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;em&gt;ছবি: গাছ উজাড় করে মিষ্টিআলুর চাষ&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;img class=&quot;aligncenter yui-img&quot; alt=&quot;&quot; src=&quot;http://jbi.org.jm/pyra/webview/udocs/images/Farming%20on%20restored%20land.jpg&quot; height=&quot;647&quot; width=&quot;960&quot;&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: left&quot;&gt;এমন জিন-সংস্কৃতির সহ-বিবর্তনের সবগুলি উদাহরণই ঠিক উপকারী হয়নি। যেমন, &lt;a class=&quot;&quot; href=&quot;http://en.wikipedia.org/wiki/File:Pacific_Culture_Areas.jpg&quot;&gt;পলিনেশিয়ানদের&lt;/a&gt;&amp;nbsp;অতিমাত্রায় টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ভুগতে দেখা যায়। এই হার পৃথিবীতে সর্বোচ্চ, এমনকি আশেপাশের মনুষ্যগোষ্ঠির চেয়েও বেশি। &lt;a class=&quot;&quot; href=&quot;http://www.nature.com/ejhg/journal/v15/n5/abs/5201793a.html&quot;&gt;একটি গবেষকদল খুঁজে পেয়েছেন যে পলিনেশিয়ানদের মধ্যে &lt;em&gt;PPARGC1A&amp;nbsp;&lt;/em&gt;নামক একটি জিন খুব বেশি হারে দেখা যায়&lt;/a&gt;, এবং সম্ভবত এই হারই কিয়দাংশে টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগের উচ্চহারের সঙ্গে সম্পর্কিত।&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: left&quot;&gt;কেন তারা এই রোগ দ্বারা এত বেশি আক্রান্ত? 
গবেষকরা ভাবলেন নিশ্চয়ই এর সঙ্গে অধিবাসীদের পূর্বসূরীদের সংস্কৃতি-আচারের 
কোন সম্পর্ক আছে। যখন পলিনেশিয়ানরা প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলিতে বসতি 
গড়লো তখন তাদেরকে &lt;a class=&quot;&quot; href=&quot;http://ngm.nationalgeographic.com/2013/01/125-restless-genes/dobbs-text&quot;&gt;দীর্ঘসময় ধরে সমুদ্র পাড়ি দিতে হত এবং সেসময় দীর্ঘ শীত এবং ক্ষুধার কষ্ট পোহাতে হত&lt;/a&gt;।
 এই অবস্থাগুলি তাদের পরিপাক এবং পাঁচনকে ‘শক্তিশালী’ করে দিলো এমনভাবে যে 
খাবার গ্রহণের সাথেই দ্রুত চর্বি জমা হত শরীরে। প্রাকৃতিক নির্বাচন সম্ভবত 
এর সঙ্গে সম্পর্কিত জিনের প্রকারগুলির হারকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধরনের 
পরিপাকের অভিযোজন&amp;nbsp;হয়তো পূর্বের এই অঞ্চলটির মানুষদের ভ্রমণকে সাহা্য্য 
করেছে এবং প্রতিকূলতা কাটাতে সাহায্য করেছে; কিন্তু আধুনিক সংস্কৃতিতে, 
যেখানে পুষ্টির উপাদান সহজেই পাওয়া যায়, সেখানে এই পরিপাক প্রক্রিয়া আধুনিক
 পলিনেশিয়ানদেরকে&amp;nbsp;স্থুলকায় করে তোলা এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের &amp;nbsp;প্রকোপ 
বৃ্দ্ধিতে সাহায্য করেছে। তাই পলিনেশিয়ান মানুষদের খাদ্যরীতি বা জীবনপদ্ধতি
 হয়তো তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে খুব বেশি সম্পর্কিত 
নয়, বরং এমনটা হয়েছে কারন তাদের পূর্বপুরুষেরা&amp;nbsp;নৌকায় চড়েছিলেন এবং পৃথিবী 
ভ্রমণে বেড়িয়েছিলেন&amp;nbsp;বলেই।&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;em&gt;ছবি: পলিনেশিয়ান পূর্বসূরীগণ ভ্রমণে বেড়িয়েছেন।&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;img class=&quot;aligncenter yui-img&quot; alt=&quot;&quot; src=&quot;http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/3/3e/Priests_traveling_across_kealakekua_bay_for_first_contact_rituals.jpg&quot; height=&quot;615&quot; width=&quot;972&quot;&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;উপরের সবগুলিই&amp;nbsp;জিন-সংস্কৃতি সহ-বিবর্তনের অসাধারণ কিছু উদাহরণ; 
বিজ্ঞানীরা আরও এমন কিছু উদাহরণ খুঁজে পেয়েছেন। যেমন,&amp;nbsp;চাষাবাদের প্রচলন 
আমাদের মধ্যে এমন কিছু জিনকে কার্যকর করেছে যারা আমরা খাই এমন উদ্ভিদে থাকা
 কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিককে নিষ্ক্রিয় করে দিতে আমাদের দেহকে সাহায্য করে। 
নতুন নতুন জায়গা ভ্রমণ এবং অজানা পরিবেশের সম্মুখীন হওয়া আমাদের মধ্যে এমন 
কিছু জিনকে কার্যকর করেছে যার ফলে আমরা আমাদের পূর্বসূরীদের চেয়ে বেশি চরম 
গরম বা শীতকে সহ্য করতে পারছি। রান্নার আবিষ্কার আমাদের চোয়ালে পেশী এবং 
দাঁতের এনামেলের বিবর্তনকে পরিবর্তন&amp;nbsp;করে দিয়েছে। ভাষার উদ্ভাবন এবং জটিল 
সামাজিক ক্রিয়াগুলি আমাদের মস্তিষ্কের গড়ে ওঠা এবং স্নায়ু ব্যাবস্থার 
প্রাকৃতিক নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;সাংস্কৃতিক প্রভাব শুধু মানুষেই ঘটেছে এমনটা খুব সহজেই ভেবে নিতে পারি। 
কিন্তু কিছু কিছু প্রাণী খুবই প্রাথমিক সাংস্কৃতিক আচরণ দেখায় এবং এটা ভেবে
 নেয়া বোকামী হবে যে এসব আচরণ তাদের জিনেটিক্সে কোন প্রভাব ফেলেনা। যেমনটা 
হয়তো ঘটছে &lt;a class=&quot;&quot; href=&quot;http://rspb.royalsocietypublishing.org/content/281/1782/20133245.short&quot;&gt;অষ্ট্রেলিয়ার শার্ক বে’র ডলফিনদের মধ্যে&lt;/a&gt;।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্ব্যালয়ের এনা কপস পরিচালিত একটি গবেষকদল 
বোতলনাকী ডলফিনদের (আমার দেয়া নাম, আসল নাম bottlenose dolphin) নিয়ে 
গবেষণা করছেন। আমাদের পরিচিত একধরনের খাদ্যানুসন্ধানের নাম হল ‘স্পঞ্জিং’, 
যেখানে ডলফিনেরা খাবার খোঁজার সময় একধরনের স্পঞ্জ তাদের মুখে নিয়ে ঘুরে 
বেড়ায় যেন সমু্দ্র তলদেশে ঘষা খেয়ে মুখে আঘাত না পায়। এটা শুধুমাত্র 
প্রাণীদের দ্বারা কোন বস্তুর ব্যবহারের আরেকটি অসাধারণ উদাহরণই নয়, বরং এটা
 সংস্কৃতি ছড়ানোর একটি উদাহরণও বটে। কপস বলছেন, এই আচরণ ‘সামাজিক আচরণ 
হিসেবে সন্দেহাতীতভাবে মায়ের কাছ থেকে সন্তানে পরিবাহিত হয়’। তাহলে বোঝা 
যাচ্ছে এই আচরণের সঙ্গে নবীন ডলফিনদের জেনোমের সম্পর্ক আছে যেটা মায়ের কাছ 
থেকে তাদের মধ্যে এসেছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;em&gt;ছবি: স্পঞ্জ মুখে খাবার খুঁজতে বেড়িয়েছে এক ডলফিন।&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;img class=&quot;aligncenter yui-img&quot; alt=&quot;&quot; src=&quot;http://images.smh.com.au/2012/10/13/3711793/sponging-dolphin-620x349.jpg&quot; height=&quot;349&quot; width=&quot;620&quot;&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এই যোগাযোগ অবশ্য এমন&amp;nbsp;প্রমাণ দেয়না যে কোন সাংস্কৃতিক আচরণ জেনেটিক 
পদার্থকে পরিবর্তন করে দেয়, যেমনটা ল্যাকটোজ সহ্যক্ষমতা, ম্যলেরিয়া 
প্রতিরোধ এবং শক্তিশালী পরিপাকের উদাহরণগুলির ক্ষেত্রে ঘটেছিল। কিন্তু 
ডলফিনের এই আচরণ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে এর বাইরেও আরও কিছু আছে, যেমন এটা
 এমন একটি আভাস দেয় যা থেকে বোঝা যায় যে তাদের সাংস্কৃতিক আচরণ হয়তো 
প্রাকৃতিক নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করেছিল।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;বর্তমান সময়েও আমাদের বিবর্তনে সাংস্কৃতিক প্রভাব ঘটে চলেছে, কিন্তু এই 
প্রভাব কিভাবে বিবর্তনে ভূমিকা রাখবে সেটা এখনই সঠিকভাবে বলে দেয়া প্রায় 
অসম্ভব। প্রযুক্তিগত সংস্কৃতি আমাদের জিনেটিক অভিযোজনে কী ভূমিকা রাখবে? এই
 অভিযোজন কী পুরো মানবজাতিতে ঘটবে নাকি শুধু অল্প কিছু মানুষের মধ্যে ঘটবে?
 কিভাবে মানুষ-যন্ত্র ইন্টারফেইস, যেমন রোবোটিক কৃত্রিম অঙ্গ বা স্নায়বিক 
ইমপ্ল্যান্ট, আমাদের জিনগোষ্ঠিকে প্রভাবিত করবে? কোন কোন সংস্কৃতির শারীরিক
 আক্রমণজনিত বা হিংস্র খেলা কী মাথায় আঘাত পাওয়া প্রতিরোধী কোন অভিযোজনের 
সূত্রপাত ঘটাবে? এবং আর কী কী প্রশ্ন আমাদের জিজ্ঞেস করা উচিত যেগুলি আমরা 
এমনকি বুঝছিও না যে এসময় গুরুত্বপূর্ণ হবে?&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;em&gt;ছবি: কৃত্রিম রোবোটিক অঙ্গ।&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;img class=&quot;aligncenter yui-img&quot; alt=&quot;&quot; src=&quot;http://ichef.bbci.co.uk/wwfeatures/464_261/images/live/p0/1x/5d/p01x5ddp.jpg&quot; height=&quot;261&quot; width=&quot;464&quot;&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;জিনেটিক্স এবং সংস্কৃতি- দুইটি বিষয়কে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে চিন্তা করার 
আর কোন অবকাশ নেই। কঠিন বিষয় হল কোন একটি বিষয় আরেকটিকে কিভাবে প্রভাবিত 
করছে সেটা খুঁজে বের করা। ল্যাল্যান্ড বলছেন, ‘এটাই হল জিন-সংস্কৃতি 
সহ-বিবর্তন বিষয়টির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও, সবচেয়ে বেশি গবেষণা যেই 
বিষয়টির উপর হয়েছে, ল্যাকটোজ সহ্য করতে পারার ক্ষমতা, সেটি শুধু আমাদেরকে 
এটিই দেখায়নি যে জিন-সংস্কৃতি সহ-বিবর্তন ঘটে, বরং এটাও দেখিয়েছে কিভাবে 
এমন সম্পর্ক প্রমাণ করা যায়।’&lt;/p&gt;</description>
            <pubDate>Sun, 20 Apr 2014 21:08:30 +0100</pubDate>
        </item>
        <item>
            <title>সংস্কৃতি, মানুষের বিবর্তনের আরেকটি ...</title>
            <link>http://bangladeshleftist.yolasite.com/বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি/সংস্কৃতি-মানুষের-বিবর্তনের-আরেকটি-শক্তি</link>
            <description>&lt;header class=&quot;page-header clr&quot;&gt;&lt;ul class=&quot;post-meta clr&quot;&gt;&lt;li&gt;&lt;span&gt;&lt;a class=&quot;&quot; href=&quot;http://bigganblog.com/?author=7&quot; title=&quot;Posts by খান ওসমান&quot; rel=&quot;author&quot;&gt;খান ওসমান&lt;/a&gt;&lt;/span&gt; &lt;/li&gt;&lt;/ul&gt;
		
						&lt;/header&gt;
				
					&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;img class=&quot;alignnone yui-img&quot; alt=&quot;&quot; src=&quot;http://www.coevolutionofcultureandgenes.com/Images%5CFigure1-1.gif&quot; height=&quot;348&quot; width=&quot;400&quot;&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;একই বিষয়ে &lt;a class=&quot;&quot; href=&quot;http://bigganblog.com/?p=3754&quot;&gt;পূর্বপ্রকাশিত&lt;/a&gt; লেখার দ্বিতীয় পর্ব। এটিও অনুবাদ।&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;a class=&quot;&quot; href=&quot;http://www.nytimes.com/2010/03/02/science/02evo.html?pagewanted=2&amp;amp;_r=0&amp;amp;adxnnl=1&amp;amp;ref=science&amp;amp;adxnnlx=1397332911-LB%20ANsI94DyL8OEeKc2p4g&quot;&gt;&amp;nbsp;দ্বিতীয় পর্বের লেখাটি নিউ ইয়র্ক টাইমস এ প্রকাশিত&lt;/a&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;অন্যান্য &amp;nbsp;জীবপ্রজাতির মতই মানব প্রজাতিও দূর্ভিক্ষ, রোগ এবং আবহাওয়ার 
মত সাধারন প্রাকৃতিক নির্বাচন শক্তিগুলি (natural selection force, এর চেয়ে
 ভাল বাংলা খুঁজে পেলাম না)&amp;nbsp;দিয়ে প্রভাবিত হয়ে&amp;nbsp;তার বর্তমান রূপ পেয়েছে। 
সম্প্রতি, এরকম আরেকটি নতুন নির্বাচন শক্তি&amp;nbsp;আমাদের গোচরে আসছে। চমৎকার এই 
ধারণাটি হল-&amp;nbsp;গত প্রায় ২০,000 বছর ধরে মানুষ তার অগোচরেই নিজেদের বিবর্তনকে 
রূপ দিচ্ছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;মানুষের সংস্কৃতি, বৃহদাকারে ব্যাখ্যা করতে চাইলে বলা যায় অর্জিত আচরণ, 
এমনকি প্রযুক্তিও আমাদের বিবর্তনের নির্বাচনিক শক্তি। এই শক্তির উপস্থিতির 
প্রমাণ একটু আশ্চর্যজনক, কারন অনেকদিন থেকেই ভাবা হত যে সংস্কৃতির 
ভূমিকা&amp;nbsp;মানব বিবর্তনে&amp;nbsp;ঠিক উল্টো। জীববিজ্ঞানীরা ভাবতেন যে অন্যান্য 
প্রাকৃতিক নির্বাচনিক চাপের&amp;nbsp;পূর্ণশক্তি থেকে মানুষকে আড়াল করে রেখেছে 
মানুষের সংস্কৃতি; যেখানে জামাকাপড় এবং আশ্রয়স্থল ঠান্ডার প্রকোপ প্রশমিত 
করে এবং চাষাবাদ সঞ্চয়ের পথ খুলে দিয়ে&amp;nbsp;দূর্ভিক্ষের হাত থেকে বাঁচায়।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এমনটাই ভাবা হত যে-&amp;nbsp;এই বাফারিং প্রক্রিয়ার&amp;nbsp;(বিভিন্ন বিবর্তনিক শক্তি 
নিষ্ক্রিয় করে দেয়া অর্থে বোঝানো) কারনে সংস্কৃতি মানুষের বিবর্তনের গতিকে 
ভোঁতা করে দিয়েছিল, এমনকি অদূর অতীতে পুরোপুরি বন্ধও করে দিয়েছিল। বহু 
জীববিজ্ঞানীই ইদানিং সংস্কৃতির ভূমিকাকে অন্য আলোয় দেখছেন।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;যদিও সাংস্কৃতিক আচার-আচরণ&amp;nbsp;আসলেই মানুষকে অন্য নির্বাচনিক&amp;nbsp;শক্তিগুলি 
থেকে আড়াল করে রাখে, তারপরও সংস্কৃতি নিজেই একটি&amp;nbsp;জোড়ালো নির্বাচনিক&amp;nbsp;শক্তি। 
মানুষ&amp;nbsp;বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, যেমন নতুন ধরনের খাদ্যাভাসকে জিনগতভাবে
 গ্রহণ করেছে, মানে সেই অনুযায়ী&amp;nbsp;অভিযোজিত হয়েছে। এই জিন-সংস্কৃতি&amp;nbsp;সম্পর্ক 
অন্যান্য নির্বাচন শক্তির চেয়ে দ্রুততায় বিবর্তনে&amp;nbsp;কাজ করে, ‘জিন-সংস্কৃতি 
সহ-বিবর্তন মানুষের বিবর্তনের সবচেয়ে জোড়ালো শক্তি, এমনটাই ভাবতে বাধ্য 
হচ্ছেন কিছু জীববিজ্ঞানী’, নেচার রিভিউ পত্রিকায় বলছেন কেভিন ল্যাল্যান্ড 
এবং সহযোগীগণ। ড. ল্যাল্যান্ড স্কটল্যান্ড এর সেইন্ট এন্ড্রু 
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তন বিজ্ঞানী।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;জিন এবং সংস্কৃতির সহ-বিবর্তনের ধারনাটি প্রায় কয়েক দশক ধরেই বিজ্ঞানীরা
 ভাবছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি এর পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি দেয়া সম্ভব হয়েছে। 
দুইজন প্রধান চিন্তাবিদ, লস এঞ্জেলস ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্ট
 বয়েড এবং ডেভিস ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটার রিচার্ডসন অনেক বছর 
ধরেই বলছেন যে মানব বিবর্তনে জিন এবং সংস্কৃতি একে&amp;nbsp;অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। 
ড. বয়েড বলছেন, ‘এমন না যে আমরা অবহেলিত ছিলাম, কিন্তু আমাদের ধারনাটি 
অগ্রাহ্য করা হচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর এধারণার পক্ষে তথ্য-উপাত্তের 
পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।’&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ড. বয়েড এবং ড. রিচার্ডসনের কাছে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট যেই প্রমাণটি আছে সেটি 
হল উত্তর ইউরোপের বহু মানুষের মধ্যে ল্যাকটোজ সহ্য করার ক্ষমতা তৈরি করা 
সাংস্কৃতিক নির্বাচন শক্তি। বেশিরভাগ মানুষ&amp;nbsp;বড় হওয়ার পরে তাদের ল্যাকটোজ 
ভেঙে ফেলার জিনটিকে বন্ধ করে দেয়, তবে উত্তর ইউরোপের মানুষেরা ব্যাতীত। আদি
 গোখামার কেন্দ্রিক সংস্কৃতি লালনকারী উত্তরাধীকারীগণ ইউরোপের&amp;nbsp;এই এলাকায় 
বসতি গড়েছিলেন প্রায় ৬,০০০ বছর আগে- তাদের দেহে জিন টি কার্যকরী থেকে যায় 
বড় হওয়ার পরেও।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এখন ল্যাকটোজ সহ্যক্ষমতাকে সাংস্কৃতিক আচার, যেমন দুধ পান, দ্বারা 
মানুষের জেনোমের বিবর্তনিক পরিবর্তনের উৎকৃষ্টভাবে চিহ্নিত করার&amp;nbsp;উপায় 
হিসেবে দেখা হয়। সম্ভবত এই বাড়তি পুষ্টি মানুষের জন্য এতটাই সুবিধাজনক&amp;nbsp;ছিল 
যে প্রাপ্তবয়ষ্কগণ অধিক পরিমানে সন্তানসন্ততি জন্ম দিতেন এবং এরাই পরে 
মূল&amp;nbsp;জনগোষ্ঠিতে পরিণত হয়েছেন।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এই জিন-সংস্কৃতি আন্ত:সম্পর্কের ঘটনাটি অতি অনন্য। গত কয়েক বছরে, 
বিজ্ঞানীরা পুরো মানব জেনোম খুঁজে (জেনোম স্ক্যান)&amp;nbsp;এমন কিছু জিন বের করতে 
পেরেছেন যারা বর্তমানে&amp;nbsp;নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যেসব &amp;nbsp;মানুষ বেশি বেশি
 সন্তানসন্ততি তৈরি করছেন তাদের ক্ষেত্রে যদি&amp;nbsp;কোন জিনের একটি 
প্রকরণের&amp;nbsp;যায়গায় আরেকটি প্রকরণ&amp;nbsp;বেশি হারে নির্বাচিত হচ্ছে হয় তবে বোঝা যায় 
যে এই জিনগুলি প্রাকৃতিকভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত হচ্ছে এবং এমন চিহ্ন দিয়েই বোঝা
 যায় যে তারা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।&amp;nbsp;এইরকম জিন খোঁজার প্রক্রিয়ায় 
এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে মানুষের জেনোমের ১০ শতাংশ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় 
২,০০০ জিন, নির্বাচনের চাপের মধ্যে আছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;বিবর্তনিকভাবে এই সবগুলি নির্বাচন চাপই সাম্প্রতিক- জার্মানির লিপজিগ এর
 ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ইভোলুশনারি এনথ্রোপলজির জিনতত্ত্ববিদ 
মার্ক স্টোনকিং এর মতে মাত্র ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ বছর আগেকার নির্বাচনিক চাপ
 এগুলো।বিজ্ঞানীরা &amp;nbsp;নির্বাচন চাপগুলির কারন&amp;nbsp;অনুসন্ধান করতে পারেন যদি বুঝতে
 পারেন যেই জিনগুলির উপর নির্বাচন&amp;nbsp;ক্রিয়া করছে তাদের কাজটা কী। মানুষের 
জেনোমে থাকা প্রায় ২০,০০০ এর মত জিন এর বেশিরভাগের কাজকেই আমরা খুব ভালভাবে
 বুঝতে পারিনি এখনও; কিন্তু &amp;nbsp;বড় পরিসরে বোঝার জন্য এসব জিন হতে প্রোটিনের 
কি ধরনের গঠন তৈরি হয় সেটা কে নির্দিষ্ট করতে পারি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এই হিসেবে, অনেকগুলি জিন সাধারন নির্বাচন চাপগুলিতে সাড়া দিচ্ছে। কিছু 
কিছু দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় নিযুক্ত, এবং রোগ থেকে বাঁচার উপায়ের জন্য 
সম্ভবত এসব জিনের উপস্থিতিই বেশি। যেসব জিন ইউরোপিয় এবং এশিয়দের মধ্যে 
ত্বকের ফ্যাকাশে (ফর্সা অর্থে) রঙের জন্য দায়ী তারা আবহাওয়া এবং ভৌগলিক 
অবস্থানের প্রভাবের প্রতিক্রিয়া।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;কিন্তু অন্য জিনগুলি সম্ভবত সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের জন্য সুবিধা পাচ্ছে। 
এসবের মধ্যে আছে এমন অনেকগুলি জিন যারা খাদ্যাভাস এবং পরিপাকের সঙ্গে 
যুক্ত; আর সম্ভবত এরা ১০,০০০ বছর আগে যখন মানুষ কৃষিকাজের সূত্রপাত ঘটালো 
তখনকার খাদ্যাভাসের প্রধান পরিবর্তনকে অনেকখানিই প্রতিফলিত করে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;আমাদের লালার মধ্যে অ্যামাইলেজ নামক একধরনের এনজাইম আছে যারা শর্করা 
ভেঙে ফেলে। যেসব মানুষ কৃষিপ্রধান সমাজে বসবাস করে তারা বেশি শর্করা খায় 
এবং তাদের মধ্যে শিকারপ্রধান (প্রাণী এবং মৎস) সমাজের মানুষের চেয়ে বেশি 
অ্যামাইলেজ জিনের কপি আছে। ল্যাকটোজ সহ্যের জন্য জিনেটিক পরিবর্তন শুধু 
ইউরোপেই দেখা যায়নি, বরং আফ্রিকার ৩টি রাখাল সমাজেও দেখা গিয়েছে। এই 
প্রত্যেকটি&amp;nbsp;সমাজের মধ্যেই ভিন্ন ভিন্ন মিউটেশান (জিন বিন্যাসে&amp;nbsp;পরিবর্তন) 
সম্পর্কিত, কিন্তু সবগুলির ফলাফল একটাই- ল্যাকটোজ ভাঙার জিনটি প্রাপ্তবয়ষ্ক
 হওয়ার পরও বন্ধ না হয়ে যাওয়া।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;em&gt;ছবি: মানুষের দেহে অ্যামাইলেজ জিনের কপি
 নাম্বারের সঙ্গে উচ্চ স্টার্চ এবং নিম্ন স্টার্চ গ্রহণের খাদ্যাভাসের 
সম্পর্ক পৃথিবীর মানচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;img class=&quot;aligncenter yui-img&quot; alt=&quot;&quot; src=&quot;http://confusedious.files.wordpress.com/2012/05/salivaryamylase.png?w=497&amp;amp;h=509&quot; height=&quot;509&quot; width=&quot;497&quot;&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;নির্বাচন চাপ এমনকি আমাদের স্বাদগ্রহণ এবং ঘ্রাণের জিনগুলোকেও প্রভাবিত 
করেছে বলে আভাস পাওয়া গিয়েছে; এটা সম্ভবত &amp;nbsp;মানুষ যখন যাযাবর থেকে এক জায়গায়
 থিতু হতে শিখেছে তখনকার জীবনযাত্রার পরিবর্তনের লক্ষণ। আরেকটি নির্বাচন 
চাপের দ্বারা প্রভাবিত জিনের উদাহরণ হল যারা হাড় বৃদ্ধিতে নিয়োজিত। এই 
প্রভাব সম্ভবত প্রায় ১৫,০০০ বছর আগে থেকে শুরু হয়েছে যখন মানুষ থিতু হতে 
শিখেছে এবং তার ওজন কমতে শুরু করেছে, ফলে হাড়কে কম ভার বহন করতে হত।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;প্রভাবিত জিনের তৃতীয় দলটি হল যারা মস্তিষ্কের কাজে অংশগ্রহণ করে। এই 
জিনগুলির ভূমিকা অজানা, কিন্তু যখন মানুষ ছোট ছোট শখানেক মানুষের দলভূক্ত 
সমাজে বসবাস ছেড়ে বড় বড় হাজারখানেক মানুষের গ্রামে থাকা রপ্ত করেছে এবং এর 
ফলে একধরনে নির্বাচন চাপ তৈরি হয়েছে তার ফলস্বরূপই&amp;nbsp;জিনগুলির&amp;nbsp;মধ্যে 
পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গিয়েছে। ড. ল্যাল্যান্ড বলছেন, ‘এটা খুবই সম্ভব যে 
কিছু কিছু পরিবর্তন বৃহৎ সমাজে থাকা মানুষের হিংস্রতার প্রভাবে ঘটেছে’।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;যদিও জেনোম স্ক্যান নিশ্চিতভাবেই জানাচ্ছে যে সাংস্কৃতিক প্রভাবে আমাদের
 জিন প্রভাবিত হয়েছে, তারপরও এটা প্রমাণের পরীক্ষাগুলি পুরোপুরিই 
পরিসংখ্যানিক- &amp;nbsp;কোন জিন কতটুকু গতানুগতিক সেটার উপর নির্ভর করে হিসাব করা। 
তাই,&amp;nbsp;কোন জিন আসলেই নির্বাচনিক চাপে আছে কিনা সেটা বোঝার জন্য 
জীববিজ্ঞানীদের এমন পরীক্ষা করতে হবে যেখানে নির্বাচিত এবং অনির্বাচিত 
জিনের ধরনের পার্থক্যগুলি পরিমাপ করা যায়।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ড. স্টোনকিং এবং তার দল আসলে এমনই কিছু&amp;nbsp;পরীক্ষা করেছেন ৩টি জিনের উপর 
যারা পরিসংখ্যানিক পরীক্ষায় সাংস্কৃতিক প্রভাবে নির্বাচনে ভালভাবে 
প্রমাণিত। এদের মধ্যে একটি জিনের নাম হল EDAR জিন, মানুষের চুলের বৃদ্ধি 
নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় যেটা কাজ করে। EDAR জিনের একটি ধরন পূর্ব এশিয় এবং 
নেটিভ আমেরিকানদের মধ্যে অনেক পাওয়া যায়, এবং সম্ভবত এসব এলাকার মানুষদের 
মধ্যে ইউরোপিয়ান বা আফ্রিকানদের চেয়ে স্থুল চুলের অধিকারী হওয়ার পেছনে এই 
জিনটি কাজ করে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;em&gt;ছবি: এশিয়, ইউরোপিয় এবং আফ্রিকার মানুষের চুলের স্থূলতা।&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center&quot;&gt;&lt;img class=&quot;aligncenter yui-img&quot; alt=&quot;&quot; src=&quot;http://4.bp.blogspot.com/_GkQ08Dsvo30/SreaxX69K7I/AAAAAAAAAR4/JWe8PtwWci4/s1600/ellipse.png&quot; height=&quot;465&quot; width=&quot;578&quot;&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;EDAR জিনটি এমনই কিছু&amp;nbsp;সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছে সেটা অবশ্য এখন পর্যন্ত 
পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়নি। সম্ভবত স্থুল চুল থাকাটা এমনিতেই একটি সুবিধা, 
সাইবেরিয় পরিবেশে তাপ ধরে রাখার জন্য। অথবা এটা যৌণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে 
গিয়েছে, যেখানে স্থুল চুলের অধিকারীরা সঙ্গী হিসেবে বেশি নির্বাচিত হয়েছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;অথবা একটি তৃতীয় সম্ভাবনা থাকতে পারে এই ঘটনার পেছনে- এই জিনটি একটি 
প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এমন একটি নিয়ন্ত্রক জিনকে চালু করে দেয় 
যেটা চুলের বৃদ্ধিকেও নিয়ন্ত্রণ করে। তাহলে, এই জিনটি সুবিধাপ্রাপ্ত হওয়ার 
কারন হতে পারে এর রোগ প্রতিরোধী ভূমিকার কারনে, যেখানে স্থুল চুল একটি 
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে। অথবা তিনটা সম্ভাবনার সবগুলিই একসাথে কাজ
 করতে পারে। ড. স্টোনকিং বলছেন, ‘এটি এমন একটি ঘটনা যেটা নিয়ে আমরা অনেক 
কিছুই জানি, কিন্তু আবার অনেক কিছুই জানতে বাকি।’&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এই জিনের&amp;nbsp;ব্যাপারটি&amp;nbsp;দিয়েই বোঝা যায় জীববিজ্ঞানীরা জেনোম স্ক্যানের 
মাধ্যমে নির্বাচন ইঙ্গিতের অর্থ বোঝার জন্য খুবই সতর্ক থাকেন। তবে কিভাবে 
আদি মানুষ আধুনিক মানুষে পরিনত হল, যেমন উত্তরপূর্ব এশিয়ার মানুষ কিভাবে 
নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিল, সেসব বিষয়ে আলোকপাত করে উপরের উদাহরণ। ড. 
স্টোনকিং এর মতে, ‘এটাই আসল উদ্দেশ্য। আমি নৃতাত্ত্বিক অবস্থান থেকে দেখছি,
 এবং আমরা পুরো গল্পটা জানতে চাই।’&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;প্রাচীন মানুষের সংস্কৃতি খুব শ্লথ গতিতে পরিবর্তিত হয়েছে। ওল্ডোয়ান 
নামক একধরনের প্রস্তর যন্ত্র ২.৫ মিলিয়ন বছর আগে থেকে ব্যবহারের প্রমাণ 
পাওয়া যায় এবং তারপর ১ মিলিয়ন বছরে তেমন কোন পরিবর্তনই হয়নি এর ধরনে। আর 
এরপরে একিউলিয়ান যন্ত্র আসে যেটা ১.৫ মিলিয়ন বছর ধরে চলেছে। কিন্তু, গত 
৫০,০০০ বছরে, আচরণগতভাবে আধুনিক মানুষের ক্ষেত্রে বহুধরনের এবং বহুমাত্রার 
সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটেছে। এ থেকে এমন সম্ভাবনাই আমরা খুঁজে পাই যে 
সাম্প্রতিক সময়ের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের দ্রুত গতির কারনে 
সাম্প্রতিক&amp;nbsp;সময়ে&amp;nbsp;মানব বিবর্তন অনেক উচ্চহারে ঘটছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;যদিও&amp;nbsp;কিছু জীববিজ্ঞানী এটাকে একটা সম্ভাবনা ভাবেন, কিন্তু এর পেছনে 
প্রমাণ প্রয়োজন। জেনোম স্ক্যানের বড়সড় সীমাবদ্ধতা আছে। তারা আদি নির্বাচনের
 চিহ্নগুলি দেখতে পায়না, যেগুলি নতুন মিউটেশানের আগমণের ফলে&amp;nbsp;হারিয়ে যায় 
জেনোম থেকে; ফলে এমন কোন প্রমাণিত যুক্তি নাই যেটা বলতে পারে যে আগের চেয়ে 
এখন মানুষ বেশি পরিমানে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আবার যেসব 
জিন কে সুবিধাপ্রাপ্ত হিসেবে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে তারা অনেকগুলিই ফল্স 
পজিটিভ বা ভুল ফলাফলের দ্বারা প্রাপ্ত হতে পারে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;অন্যদিকে,&amp;nbsp;স্ক্যানগুলি দিয়ে দূর্বলভাবে নির্বাচিত জিনগুলিকে সনাক্ত করাও
 কঠিন। তাই, তারা হয়তো শুধুমাত্র জেনোমের একটি ভগ্নাংশকে খুঁজে বের করছে যা
 সম্প্রতি প্রভাবিত হয়েছে। জিন-সংস্কৃতি সম্পর্কের গানিতিক মডেল আমাদেরকে 
জানাচ্ছে যে এই ধরনের প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে 
বিবর্তন&amp;nbsp;অত্যন্ত&amp;nbsp;দ্রুতগতির হয়। সংস্কৃতি প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি শক্তি 
হিসেবে দেখা দিয়েছে, আর এটা যদি মূল শক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয় তবে মানুষের 
বিবর্তনের গতি দ্রুততর হচ্ছে, কারন মানুষ তার নিজের উদ্ভাবনের চাপে 
অভিযোজিত হচ্ছে।&lt;/p&gt;</description>
            <pubDate>Sun, 20 Apr 2014 21:07:16 +0100</pubDate>
        </item>
    </channel>
</rss>
